পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তুদের আগমন ও পুনর্বাসনঃ একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ (১৯৪৭-১৯৭১)
ফারুক সেখ
গবেষক, ইতিহাস বিভাগ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেদিনীপুর
fsk811019@gmail.com
Submitted on: 09.11.2025
Accepted on: 25.12.2025
সংক্ষিপ্তসার: ১৯৪৭ সালের দেশভাগ উপমহাদেশের ইতিহাসে এক গভীর মানবিক ও বিপর্যয়ের সূচনা ঘটায়। দেশ বিভাজনের পর পূর্ব- পাকিস্তান থেকে হিন্দুদের ঘর ছেড়ে বাধ্যতামূলকভাবে চলে আসা সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাসমূহের এক অন্যতম জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। সুন্দরী জন্মভূমির সঙ্গে ভালোবাসার অচ্ছেদ্যবন্ধনে আবদ্ধ একটি জীবন্ত, জাগ্রত মনুষ্যগোষ্ঠীকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলে দেওয়ার এই কাহিনী। কিন্তু পাঞ্জাবে যা ঘটেছিল, পূর্ববাংলায় তা ঘটেনি। এক প্রচণ্ড বিধ্বংসী হত্যালীলা ও জনবিনিময়ের দ্বারা জন্মভুমি থেকে দুই বিপুল মনুষ্যগোষ্ঠীকে স্বল্পকালের মধ্যে উপড়ে ফেলার মত কাজ সম্পন্ন হয়েছিল পাঞ্জাবে। কিন্তু বিভক্ত বাংলায় হিন্দু- মুসলমান– এই দুই মনুষ্যগোষ্ঠীর বিনিময় হয়নি। পূর্ব-পাকিস্তান থেকে চলে আসতে হয়েছিল শুধু হিন্দুদের। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে গুটিকয়েক জনকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে হয়েছিল। পাঞ্জাবের মত কোন মহাপ্রলয় হয়নি বাঙলায়। পূর্ব-পাকিস্তানের সব হিন্দুদের একসঙ্গে একই সময়ে উপড়ে ভারতে ছুঁড়ে দেওয়া হয়নি। তাঁরা ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। আমি এখানে দেখাতে চাইছি মূলত দেশভাগের পর পূর্ব-পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তুরা কেন পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে কোন শ্রেণীর উদ্বাস্তুরা চলে এসেছিল। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের পুনর্বাসন নীতি, তার বাস্তবয়ন এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পর্যালোচনা। এছাড়া উদ্বাস্তুদের আগমনের ফলে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গঠনে কি ধরণের পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। তাঁদের আগমনের মূল কারণ কি শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল না অন্য কোন কারণের জন্য তারা নিজেদের জন্মভিটে ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গমুখী হতে বাধ্য হয়েছিল।
সূচক শব্দ: দেশভাগ, উদ্বাস্তু, পূর্ব-পাকিস্তান, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গ, অভিবাসন, পুনর্বাসন।