ন্যায়– বৈশেষিক মত অনুসারে ‘সামান্য’

সঞ্জিত কুমার মণ্ডল
স্টেট এইড কলেজ টিচার, ডেবরা থানা শহীদ ক্ষুদিরম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়
sanjitmondal2020@gmail.com



Submitted on: 13.11.2025
Accepted on: 28.06.2026



সারসংক্ষেপ: ন্যায় দর্শনে ষোড়শ প্রকার পদার্থ স্বীকার করা হলেও বৈশেষিক দর্শনে সপ্ত পদার্থ স্বীকার করা হয়। বৈশেষিক স্বীকৃত সপ্ত পদার্থ হল—“দ্রব্যং গুনস্তথা কর্ম সামান্যং সবিশেষকম্ /সমবায়স্তথাভাবঃ পদার্থাঃ সপ্ত কীতিতাঃ”। বৈশেষিক দর্শনে চতুর্থ ভাব পদার্থ হল সামান্য। দ্রব্য, গুণ ও কর্মে সামান্য অবস্থান করে তাই দ্রব্য, গুণ ও কর্মের নিরূপণের পর প্রশস্তপাদাচার্য সামান্য পদার্থের স্বরূপ নিরূপণ করেছেন। সূত্রকার ও ভাষ্যকার উভয়ই ‘সামানানাং ভাবঃ’ এই রূপ অর্থে সামান্য শব্দের প্রয়োগ করেছেন। সামান্য শব্দটি ‘জাতি’ অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। উদয়নাচার্য তাঁর কিরনাবলীতে সামান্যের লক্ষণ প্রদান করে বলেছেন— ‘সমানানাংভাবঃ স্বভাবিকো নাগন্তুকোঃ ধম্মঃ সামান্যমিত্যর্থঃ’ উক্ত লক্ষণ স্বীকার করলে জাতি ও উপাধিকে সামান্য বলতে হয়। এছাড়া ব্যক্তি বা বস্তুর সঙ্গে স্বাভাবিক ধর্মের সম্বন্ধ কি তা উক্ত লক্ষণে উল্লেখ নেই। উক্ত কারণে পুনরায় কিরনাবলীকার সামান্যের অপর লক্ষন প্রদান করে বলেছেন, ‘নিত্যমেকমনেকবৃত্তি সামান্যম।’

বৈশেষিক দর্শনের সামান্যের লক্ষণ নিরূপণের পর সামান্যের প্রকারভেদ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। সামান্যের প্রকারভেদ সম্পর্কে প্রশস্তপাদ ভাষ্যে বলা হয়েছে –সামান্যং দ্বিবিধং পরমপরং চানুবৃত্তিপ্রত্যয় কারণম্। তত্র পরং সত্তা মহাবিষয়ত্বাৎ,সা চানুবৃত্তেরেব হেতুত্বাৎ সামান্যমেব। দ্রব্যত্ত্বাদ্যপরমল্পবিষয়তাৎ। তচ্চ ব্যাবৃত্তেরপি হেতুত্বাৎ সামানং স্বদ্বিশেষাখ্যামপি, লভতে। অর্থাৎ সামান্য দুই প্রকার - পর ও অপর। এই সামান্য পদার্থ অনুবৃত্তি জ্ঞানের কারণ।

উদয়নাচার্য তাঁর ‘কিরনাবলী’ গ্রন্থে ছয় প্রকার জাতিবাধকের উল্লেখ করেছে - “ব্যক্তেরভেদস্তুল্যত্বং সঙ্করোংস্থানবস্তিতিঃ।/ রুপহানিরসম্বন্ধো জাতিবাচকসংগ্রহঃ”।

সূচক শব্দ: পদার্থ, সামান্য, জাতি,অপোহ

Download Pdf

How to Cite

Published in
January 2026
Copyright © Debra Thana Sahid Kshudiram Smriti Mahavidyalaya (Autonomous).