বঙ্কিম মুখার্জী (১৮৯৭-১৯৬১) : এক বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবী-কমিউনিস্ট
শুভঙ্কর দেবনাথ
পি এইচ. ডি. গবেষক, স্টেট জুনিয়ার রিসার্চ ফেলো, ইতিহাস বিভাগ, রবিন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
dsubhankar937@gmail.com
Submitted on: 08.03.2026
Accepted on: 28.06.2026
সারাংশ: বিংশ শতকের প্রথমার্ধ থেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শোষণ, বঞ্চনা, অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খলা হতে মুক্তিলাভের আশায় ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার স্বাদ খুব সহজেই ভারতবাসী পায়নি। সুদীর্ঘ সংগ্রাম, বহু আত্মবলিদান এবং সংগঠিত জনরোধের মধ্যে দিয়েই ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল। আবার জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য ও কর্মপন্থাকে কেন্দ্র করে সেই সময়ে কয়েকটি ধারা যেমন-নরমপন্থা, চরমপন্থা এবং বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদির আবির্ভাব ঘটে, যেগুলির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে অবিভক্ত বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বিপ্লববাদের ধারা বিশেষভাবে যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধীজীর নেতৃত্বে অহিংস ও সত্যাগ্রহের আদর্শকে সামনে রেখে যে আন্দোলন শুরু হয় তা বাংলার জনসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। এরই সমান্তরালে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবের প্রভাব ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে প্রতিভাত হতে দেখা যায়, যখন মার্কস-লেনিনবাদের তত্ত্বকে হাতিয়ার করে ভারতীয় জনগণকে জাতীয় আন্দোলনে উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়াস নেওয়া হয়। এর সূত্রেই ১৯২০ দশকে কমিউনিস্ট মতাদর্শ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বাংলার রাজনীতিতেও বহু যুবক মার্কসীয় আদর্শে দীক্ষিত হন এবং ধীরে ধীরে ভারতবর্ষ তথা বাংলায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠতে থাকে, যেগুলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৩০ -এর দশকে যে সকল বাঙালি কমিউনিস্ট নেতার নাম জানা যায় তার মধ্যে বিশেষ সমাদৃত হলেন বঙ্কিম মুখার্জী। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল তাঁর সম্পর্কে তেমনভাবে কোনরকম চর্চা লক্ষ্য করা যায়না। তিনি একপ্রকার স্মৃতির অন্তরালে থেকে গেছেন। আলোচ্য এই প্রবন্ধে কমরেড বঙ্কিম মুখার্জীর জীবনের সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন ঘটনা, কৃষক-শ্রমিক নেতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা, জীবনাদর্শ এবং কমিউনিস্ট নেতা হিসেবে তৎকালীন সময়ে তাঁর যে অবদান ছিল সেই বিষয়গুলির ওপর আলোকপাত করা হবে।
সূচক শব্দসমূহ: বিংশ শতক, বিস্মৃত, কমিউনিস্ট, বাংলা, বঙ্কিম মুখার্জী, কৃষক-শ্রমিক নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন।